Kolkata Metro Murder : মেট্রো স্টেশনে কেন সহপাঠীর হাতে খুন নাবালক? 'অপরাধের' পরও পরিবারের প্রশ্রয় !

 

Kolkata Metro Murder : মেট্রো স্টেশনে কেন সহপাঠীর হাতে খুন নাবালক? 'অপরাধের' পরও পরিবারের প্রশ্রয় !



রাতে দক্ষিণেশ্বর থানায় রানাকে টানা জেরা করেন ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি সাউথ অনুপম সিং-সহ পুলিশ কর্তারা।

সমীরণ পাল, হিন্দোল দে, কলকাতা : ভয়ঙ্কর। হাড়হিম করা। অবিশ্বাস্য। স্কুলে ব্যাগে ছুরি নিয়ে ঘুরছে ছাত্র। আর সহপাঠীর সঙ্গে বচসা হওয়াতেই এলোপাথারি কোপ। তাও আবার ভিড়ে ঠাসা মেট্রো স্টেশনে। নিজে সিসিটিভির আওতায় আছে, তা জেনেও। যে কোনও মুহূর্তে আরপিএফ ধরতে পারে , তা জেনেও। এত মানুষ তাকে খুন করতে দেখছে , তা জেনেও হাত কাঁপেনি স্কুল ছাত্রের। একের পর এক কোপে শেষ করে দিয়েছে সহপাঠীকে। দক্ষিণেশ্বরের ঘটনায় কার্যত হতবাক মেট্রোযাত্রীরা। শঙ্কিত অভিভাবকরা। কেন খুন? এত আক্রোশ, এত দুঃসাহস কোত্থেকে আসে? পুলিশের তদন্তে সামনে এল অবিশ্বাস্য তথ্য। 

এই অপরাধের পিছনেও পাওয়া গেল বিহার-কানেকশন। শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে সহপাঠী মনোজিৎ যাদবকে খুনের পর অভিযুক্ত রানা সিংকে ধরা যায়নি সঙ্গে সঙ্গে। সে সহপাঠীকে কুপিয়েই চম্পট দেয়। এই ঘটনার পর তার পরিবার তো ছেলেকে সমুচিত শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেইনি, বরং মাথার উপর রেখেছিল প্রশ্রয়ের হাত। তাই তো তাকে নিয়েই বিহারের বেগুসরাইয়ে পালানোর ছক কষেছিল পরিবার।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দক্ষিণেশ্বর থানার পুলিশ গতকাল রাতে হাওড়া স্টেশন থেকে রানা সিং-কে গ্রেফতার করে। সঙ্গে ছিল রানার মা-বাবা-বোন। রাতে দক্ষিণেশ্বর থানায় রানাকে টানা জেরা করেন ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি সাউথ অনুপম সিং-সহ পুলিশ কর্তারা।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, এক কিশোরীকে কটূক্তি করা নিয়ে দুই সহপাঠী মনোজিৎ যাদব ও রানা সিংয়ের মধ্যে 
গন্ডগোলের সূত্রপাত। ১০ তারিখ এই নিয়ে দুই বন্ধুর বচসা হয়।  গতকাল শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনে ফের ঝামেলা বাধে। এরপর
দক্ষিণেশ্বর স্টেশনে মেট্রো থেকে নেমে মনোজিৎকে ছুরির কোপ মারে রানা। অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ার পর বরানগরের  আলমবাজারে তার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  

এদিকে মেট্রো স্টেশনে ভর দুপুরে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনায় ত্রস্ত নিত্যযাত্রীরা। বহু স্কুল পড়ুয়া, ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা একাই যাতায়াত করে মেট্রো রেলে। শঙ্কিত তাদের পরিবারও। মেট্রোরেলেই যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে কোন ভরসায় ছেলেমেয়েদের ছাড়বে তারা ! কিন্তু শুক্রবারের ঘটনার পরও শনিবার মেট্রো স্টেশনে দেখা গেল নিরাপত্তার বেহাল পরিস্থিতি। এবিপি আনন্দ-র ক্যামেরায় সেই ছবি ধরা পড়েছে ব্রিজি অর্থাৎ শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনে। নজরদারি সেভাবে নেই। ২-১ জন RPF কনস্টেবল থাকলেও তাঁদের কাউকেই জায়গায় দেখা যায়নি। রেল পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা যেমন নেই, দেখা যায়নি কলকাতা পুলিশের কোনও কর্মীকে। স্বাভাবিক ভাবেই অভিযুক্ত ধরা পড়লেও স্বস্তিতে নেই মেট্রোযাত্রীরা। 


Previous Post Next Post