Jadavpur University Death : কীভাবে মৃত্যু যাদবপুরের ছাত্রীর, কী বলছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট, কী জানালেন বাবা-মা?

 

Jadavpur University Death : কীভাবে মৃত্যু যাদবপুরের ছাত্রীর, কী বলছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট, কী জানালেন বাবা-মা?



যাদবপুরের পড়ুয়া অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যু নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মৃত ছাত্রীর পরিবার।

সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : রাত ৯টার কিছু পরে মাকে ফোন করে বলেছিলেন, বাউল গানের অনুষ্ঠান চলছে, সেই অনুষ্ঠান শোনার পর দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসবেন। কিন্তু তারপরেই এল সেই মৃত্যু সংবাদ।মৃত্যুর ঠিক আগেই মেয়ে ফোন করে বলেছিল, ' মা ছবিগুলো পাঠাচ্ছি। দেখছো? ছবিগুলে দেখো। আরও পাঠাচ্ছি আমি।' মা বলেছিলেন, 'আর পাঠাতে হবে না। তুই এবার চলে আয়। বেরিয়ে আয়।' মেয়ের আর ফেরা হল না। দেখা হল যখন, তখন আত্মজার শরীর স্পন্দনহীন ! যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। ঝিলের আশেপাশে সিসিটিভি নেই।  কারণ জানতে ভরসা ময়না তদন্তের রিপোর্ট। 

মৃতা ছাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, সেদিন ওই সময় তাঁর স্ত্রীর কাছে একটি ফোন আসে। বলা হয়, মেয়ে জলে পড়ে গিয়েছে।  তাঁকে জল থেকে তোলা হয়েছে। তখন জানানো হয় , শ্বাসপ্রশ্বাস আছে। জানানো হয়,  সহপাঠীরাই তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। অনামিকার মা-বাবাকে সেখানে যেতে অনুরোধ করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারেন, মেয়ে আর নেই। তাঁর পালস পাওয়া যাচ্ছে না । ইসিজি রিপোর্টও সরলরেখা।  

ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে দাবি, 'জলে ডুবেই মৃত্যু যাদবপুরের পড়ুয়া অনামিকা মণ্ডলের'। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মৃত ছাত্রীর পরিবার। তাদের দাবি, যাদবপুরের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া নেশা করতেন না। অনামিকার সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৮ মিনিটে। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে বলেছিলেন মা। অনামিকা জানিয়েছিলেন, ক্যাম্পাসে বাউল গান হচ্ছে, শুনে ফিরবেন।  কিন্তু এর মাঝখানে কী এমন ঘটল যে অনামিকা ঝিলে পড়ে গেলেন! নাকি অন্যকিছু? 

এখন ছাত্রীর বাবার আক্ষেপ,  ক্যাম্পাসে CC ক্যামেরা থাকলে, মৃত্যুর কারণ বোঝা যেত । চিকিৎসকদের কাছে জানা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ছাত্রীর মৃত্যু ঘটেছে। দুই কনুইয়ে পাওয়া গিয়েছে ছড়ে যাওয়ার দাগ।  মোবাইল ফোন সমেত ব্যাগ রাখা ছিল বন্ধুর কাছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ভালভাবে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে মৃত ছাত্রীর পরিবার। 

এই পরিস্থিতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রছাত্রীদেরই দাবি, ক্যাম্পাসে সব জায়গায় সিসিটিভি থাকা দরকার। দরকার, আই-কার্ড দেখে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়ার। অনামিকার মা-বাবারও তেমনটাই দাবি। এখন পুরো ঘটনা স্পষ্ট হবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বিস্তারিত জানা গেলে।         


Previous Post Next Post