অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা: ভিডিয়ো ফুটেজের ভিত্তিতে গ্রেফতার ৪, আটক আরও ৩
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলের ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম আকাশ গায়েন, কাজল, দেবাশিস এবং জয় সেনগুপ্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে আঘাত করা, বেআইনি জমায়েত, পথ অবরোধ ও অশালীন আচরণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোনারপুর থানার পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
শনিবার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছনোর পরই তিনি বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মুখে পড়েন। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো এবং পাথর ছোড়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি হেলমেট পরেন। ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁর জামাও ছিঁড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।
পরবর্তীতে নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় অভিষেককে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত এবং এর পিছনে বিজেপির ভূমিকা রয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ইতিমধ্যেই এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিয়ো ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সেই সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের রবিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে অন্য একটি হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হলেও ভর্তি করানো হয়নি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, হামলার জেরে তাঁর বুকে আঘাত লেগেছে এবং রক্ত জমাট বেঁধেছে।
ঘটনার পর থেকেই হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছিল তৃণমূল। দলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত কিছু ভিডিয়ো ফুটেজে অভিযুক্তদের সঙ্গে বিজেপির যোগসূত্র থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে। এই ঘটনার নিন্দা করেছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র একাধিক নেতা, যার মধ্যে রয়েছেন Rahul Gandhi এবং Arvind Kejriwal।
