২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টাকা ঢুকবে, আধার কার্ড লিংক থাকতেই হবে
আর মাত্র কটা দিনের অপেক্ষা। ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২১ লক্ষ রাজ্যবাসীর অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে সরকারের পাঠানো টাকা। বোঝাই যাচ্ছে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিপুল সংখ্যক মানুষ সরাসরি সরকারের থেকে টাকা পেতে চলেছে। তবে এই অর্থ দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আর এটা সেই অর্থে কোনও সামাজিক প্রকল্প নয়। বরং ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে যারা কাজ করেছেন তাঁদের বকেয়া অর্থ এইভাবে মেটানো হবে। দীর্ঘ টালবাহানার পর সম্প্রতি রেড রোডের ধর্না মঞ্চ থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অর্থ মেটানোর কথা ঘোষণা করেন।
প্রান্তিক মানুষকে রোজগারের নিশ্চয়তা দিতে শুরু হয়েছিল ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প। গোটা দেশের মতই পশ্চিমবঙ্গেও এই প্রকল্প চলে। কিন্তু বাংলায় এই ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই সেই দুর্নীতির আপাত দৃষ্টিতে কিছু প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে।
যদিও রাজ্য সরকার বা বাংলা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সেই অভিযোগ মানতে রাজি নয়। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাদের টালবাহানা চলছে। আর সেই টালবাহানারই বলি হয়েছে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কাজ করা গরিব মানুষগুলো। ফলে কাজ করলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের বকেয়া অর্থ আটকে আছে।
দুর্নীতির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের ইউসি (UC) বা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে। দীর্ঘদিন বকেয়া অর্থ না পেয়ে ক্রমশই ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি বিপাকে ফেলতে পারে সংশ্লিষ্ট-পক্ষগুলিকে। সেই দিকে তাকিয়েই সম্প্রতি রেড রোডে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ধর্নায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি ছিল, অন্যায়ভাবে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের গরিব মানুষের টাকা আটকে রেখেছে। অবিলম্বে সেই অর্থ মিটিয়ে দিতে হবে।
যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এখনও ১০০দিনের কাজ প্রকল্পের বকেয়া অর্থ মেটানোর বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। কিন্তু রেড রোডের ধর্না মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের বকেয়া অর্থ ২১ লক্ষ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার তিনদিনের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে নবান্নের তরফ থেকে। সেখানে মুখ্যসচিব বি পি গোপালিকা জানিয়েছেন, প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে ১০০ দিনের প্রকল্পের অ্যাকাউন্টগুলি আবারও খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। সেখানে কোনও ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেলে তা বাদ দিতে হবে। এছাড়াও যে সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক করা থাকবে না তারা এই প্রকল্পের অর্থ পাবে না।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। কারণ এর আগে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একাধিকবার দাবি করা হয়েছে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কয়েক কোটি মানুষের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মাত্র ২১ লক্ষ রাজ্যবাসীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কথা ঘোষণা করায় বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে। তাছাড়া বিরোধীদের দাবি, রাজ্য সরকার যে গেজেট নোটিফিকেশন বার করেছে তার মধ্য দিয়ে একটা বিষয় পরিস্কার যে ১০০ দিনের প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছিল।
