গল্প: শেষ চিঠি
অধ্যায় ১: অপ্রত্যাশিত চিঠি
রাতের আঁধার ঘনিয়ে এসেছে। শহরের ব্যস্ততা থেমে গেছে, শুধু গলির মোড়ের চায়ের দোকানটায় কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছে। রুদ্র তার ঘরের জানালা দিয়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে একটা চিঠি ঠেলে দেওয়া হলো।
রুদ্র অবাক হয়ে চিঠিটা তুলল। পাঠকহীন একটা শহরে চিঠি পাঠানোর চল তো বহুদিন আগেই উঠে গেছে। খামটা খুলতেই চোখে পড়ল সুন্দর হস্তাক্ষরে লেখা কয়েকটা লাইন—
"তুমি কি কখনও এমন কারও ভালোবাসা অনুভব করেছ, যে দূরে থেকেও তোমার পাশে থাকে?"
অধ্যায় ২: হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি
রুদ্র চিঠিটা পড়ে অদ্ভুত এক অনুভূতিতে ভুগল। কয়েক বছর আগে এমনই একটা চিঠি সে নিয়মিত পেত। তখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত, অদৃশ্য এক ভালোবাসার স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল। কিন্তু একদিন সেই চিঠি আসা বন্ধ হয়ে যায়।
সে আবার চিঠিটা পড়ল। নিচে কোনো নাম নেই, শুধু লেখা আছে— "আগামীকাল সন্ধ্যায় শহরের পুরোনো লাইব্রেরির সামনে এসো।"
অধ্যায় ৩: রহস্যময় দেখা
পরের দিন রুদ্র নির্দিষ্ট সময়ে লাইব্রেরির সামনে গেল। আশপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেল না। একটু পর একটা মেয়ের কণ্ঠ শোনা গেল—
"অনেক বছর পরও তুমি সেই আগের মতোই আছো।"
রুদ্র তাকিয়ে দেখল, লম্বা চুল, শাড়ি পরা এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুখটা চেনা মনে হচ্ছে, কিন্তু নাম মনে পড়ছে না।
"তুমি...?"
মেয়েটি হাসল। "আমি সেই মানুষ, যে তোমাকে একসময় চিঠি লিখত। আমি অর্পিতা।"
অধ্যায় ৪: ভালোবাসার অপেক্ষা
রুদ্র স্তব্ধ হয়ে গেল। অর্পিতা ছিল তার একসময়ের অদৃশ্য ভালোবাসা, যার কথা সে বহুদিন ভুলে গিয়েছিল।
"তুমি হঠাৎ এখন কেন?"
অর্পিতা মৃদু হেসে বলল, "কারণ আমি জানি, কিছু ভালোবাসা কখনও ফুরিয়ে যায় না, শুধু সময়ের অপেক্ষা করে।"
রুদ্রের চোখ ছলছল করে উঠল। সেই রাতে তারা অনেক কথা বলল। সময় থেমে গিয়েছিল তাদের জন্য।
শেষ অধ্যায়: নতুন শুরু
সেই রাতের পর থেকে রুদ্র আর অর্পিতা আর কখনো একে অপরকে হারিয়ে যেতে দিল না। শহরের এক কোণে দুজনের গল্প নতুন করে শুরু হলো, আর হারিয়ে যাওয়া চিঠিগুলো এবার হাতে হাতে লেখা হতে লাগল।
সমাপ্ত
