বাংলার বাড়ি টাকা পাঠালো মুখ্যমন্ত্রী মমতা, কবে ঢুকবে দেখুন
Banglar Bari Final List: বাংলার বাড়ি: রাজ্যের ঐতিহাসিক পদক্ষেপে ১২ লক্ষ পরিবার পাবে পাকা ঘর!
পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ঘটেছে, কারণ ‘বাংলার বাড়ি’ তথা পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনার টাকা অবশেষে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছেছে।
অর্থাৎ রাজ্যের অর্থ দফতর রাজ্যের ১২ লক্ষ পরিবার বা প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের জন্য এই প্রকল্পের টাকা জেলায় জেলায় পাঠিয়ে দিয়েছে, যা একটি বৃহৎ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
কেন এই খবরটি এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই ঘটনার গুরুত্ব দুইটি প্রধান কারণে। প্রথমত, রাজ্যের ১২ লক্ষ পরিবার তথা প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের ভবিষ্যৎ এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িয়ে।
এই ১২ লক্ষ পরিবার যারা দীর্ঘদিন ধরে আকাশের নিচে, ছাদহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছে, তাদের জন্য এটা নতুন এক আশার আলো। তারা অবশেষে পাকা ঘর পেতে চলেছেন, যা তাদের জীবনের মান উন্নত করবে।
দ্বিতীয়ত, এটি এমন একটি পদক্ষেপ, যা এর আগে কোনও রাজ্য সরকার নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় কেন্দ্র ৬০ শতাংশ অর্থ দেয়, এবং রাজ্য সরকার ৪০ শতাংশ অর্থ দেয়।
তবে, ২০২২ সালের পর থেকে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য আবাস যোজনার বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। সেই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থির করেন, রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের ১০০ শতাংশ অর্থ দেবে, এবং এতে রাজ্য সরকারের উপর একটি বড় আর্থিক চাপও পড়েছিল।
এক নতুন দিশা: ‘বাংলার বাড়ি’
আগে হিসাব অনুযায়ী ১১ লক্ষ ৩২ হাজার পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় অর্থ দেওয়া হতো। তবে আবেদনকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সংখ্যাটি বাড়িয়ে প্রায় ১২ লক্ষ পরিবার করেছেন।
অর্থ দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের জেলাগুলিতে এই টাকা পাঠানো হয়েছে এবং এখন মুখ্যমন্ত্রী তারিখ ঠিক করবেন, যখন
১৭ ডিসেম্বর থেকে টাকা দিবে:-
রাজ্যের প্রশাসন সূত্রে বলা হচ্ছে, ১৭ই ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন সভাঘর থেকে বোতাম টিপে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা উপভোক্তাদের জন্য পাঠাবেন।
বিডিও অফিসে টাকা পাঠানো হয়েছে:-
ইতিমধ্যেই নবান্ন থেকে প্রত্যেকটি জেলাকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি জেলা সেই টাকা প্রত্যেকটি বিডিও অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছে ।
এবার মুখ্যমন্ত্রী বোতাম টিপে টাকা পাঠালেই উপভোক্তাদের একাউন্টে সেই টাকা সরাসরি পৌঁছে যাবে।
রাজ্যের ১০০ শতাংশ অর্থ এবং ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প।
এবার রাজ্য সরকার পুরো টাকা দিচ্ছে, ফলে প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছে ‘বাংলার বাড়ি’।
আগে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় কেন্দ্রের অর্থের ফলক লাগানো হতো, এবার সেই ফলক পরিবর্তিত হয়ে রাজ্যের নাম ও রাজ্যের কোষাগারের অর্থ দিয়ে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে।
বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে
তবে, এত বড় পরিমাণ অর্থের সুষ্ঠু বিতরণ এবং সঠিকভাবে উপভোক্তাদের মধ্যে তা পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকারের জন্য।
এর জন্য অবশ্যই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং বিভিন্ন স্তরের উপদ্রব বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে যথাযথ নজরদারি ও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা রাজ্যের অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে পরিগণিত হবে। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য সরকার প্রমাণ করল, উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণের জন্য সরকার কতটা সচেতন এবং দায়বদ্ধ।
এ থেকেই বোঝা যায়, রাজ্য সরকার রাজ্যের নাগরিকদের উন্নতির জন্য একের পর এক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
.webp)


